জেআইসিতে তারেক রহমানকে নির্যাতনের তথ্য পেয়েছে তদন্ত: চিফ প্রসিকিউটর
অনলাইন ডেস্ক : এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্টদের একটি প্রতিনিধি দল এ সময় জেআইসি পরিদর্শন করে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের মধ্যে এ ঘটনার মিল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত জেআইসি পরিদর্শন করা হয়েছে। এই স্থানে মানুষকে আটক করে রাখা এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের মাধ্যমে বন্দিশালার সেই পরিবেশ ও নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।
আমিনুল ইসলাম জানান, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ অনেক মানুষকে এই গোপন বন্দিশালায় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল। এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকেও সেখানে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যতে দেশে যেন এ ধরনের টিএফআই, জেআইসি বা আয়নাঘরের মতো কোনো গোপন বন্দিশালা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বেআইনি আটক কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অযথা হয়রানির শিকার যেন কেউ না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বলেও অভিযোগ করেন আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, ওই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের ব্যক্তিদের গুম করে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এসব ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া অনেক মানুষের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। টিএফআই ও জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











