অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট ঘিরে ডারউইন-ম্যাকে মাঠ প্রস্তুত
অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের এই সিরিজের ভেন্যু ডারউইন ও ম্যাকে। অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন সূচির বাইরে প্রায় দুই দশক পর এসব মাঠে টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। ফলে ম্যাচ আয়োজনের পাশাপাশি মাঠ প্রস্তুতকারকদেরও নিতে হচ্ছে বাড়তি প্রস্তুতি।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় ডারউইন ও ম্যাকের আবহাওয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রচণ্ড আর্দ্রতা, ভারী বৃষ্টি, দ্রুত ঘাস বেড়ে ওঠা এবং তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করেই মাঠ প্রস্তুত করতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
ডারউইনের মারারা ওভালের মাঠের দায়িত্বে থাকা জেক প্যাভলিশ জানিয়েছেন, এখানকার ঘাস প্রায় সারা বছরই দ্রুত বাড়ে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাঠ পরিচর্যা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আগাছা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, আবার অতিরিক্ত আগাছানাশক ব্যবহার করলে উইকেটের প্রয়োজনীয় ঘাসও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডারউইনের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় পুরো বছরেও তার কাছাকাছি বৃষ্টি হয় না। তাই সেখানে ক্রিকেট আয়োজনের জন্য অপেক্ষাকৃত শুষ্ক মৌসুমকে বেছে নেওয়া হয়।
মারারা ওভালের উইকেটও মাঠকর্মীদের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ। এখানে দুই অংশে বিভক্ত একটি স্থানান্তরযোগ্য উইকেট ব্যবহার করা হয়। প্যাভলিশের দলকে উইকেটের দুই অংশের সংযোগ ঠিক রাখার পাশাপাশি পুরো পিচের মানও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
তবে গত বছর উচ্চপর্যায়ের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই মাঠের উইকেট প্রশংসা পাওয়ায় এবারও ভালো ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মাঠকর্মীরা।
অন্যদিকে ম্যাকের হারাপ পার্ক প্রথমবারের মতো পুরুষদের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে। মাঠটির প্রধান প্রস্তুতকারক পিটার কাজাকফের রয়েছে গাব্বায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা। কিংবদন্তি মাঠ প্রস্তুতকারক কেভিন মিচেল জুনিয়রের কাছ থেকেই তিনি মাঠ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ কৌশল শিখেছেন।
গাব্বায় প্রায় ১৭ বছর কাজ করার পর ম্যাকেতে দায়িত্ব নেন কাজাকফ। হারাপ পার্ককে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপ দেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের মাধ্যমে মাঠটিতে নতুন গ্যালারি, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা ও সংবাদমাধ্যমের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে এখানে নারী দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের ম্যাচ, শেফিল্ড শিল্ড ও এক দিনের ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট আয়োজনকারী মাঠগুলোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
ম্যাকেকে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ায় কাজাকফের কাছে এটি স্থানীয় ক্রিকেট মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠে আসার বড় স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে ২০৩২ সালের অলিম্পিক ক্রিকেট আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবেও হারাপ পার্ককে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ডারউইন ও ম্যাকে শুষ্ক মৌসুমে টেস্ট আয়োজন করলেও মাঠকর্মীদের জন্য আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল নয়। ম্যাকেতে শীতের সময় তাপমাত্রা অনেক কমে যাওয়ায় ঘাসের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। ডারউইনেও শুষ্ক মৌসুমে মাটির তাপমাত্রা কমে গেলে ঘাসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
এ কারণে ডারউইনে বিশেষ ধরনের আবরণ ব্যবহার করে মাটির তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন মাঠকর্মীরা। তাদের মতে, এ পদ্ধতিতে ঘাসের বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।
সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য উইকেট তৈরি করা এবং পাঁচ দিন ধরে টেস্ট ম্যাচ চালানোর উপযোগী পিচ তৈরি করা এক বিষয় নয়—এ কথাও স্বীকার করেছেন দুই ভেন্যুর মাঠ প্রস্তুতকারকেরা। তাই প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত উইকেটের মান ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এবং দ্বিতীয় টেস্ট ২২ থেকে ২৬ আগস্ট ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হবে।











