জুলাই জাদুঘরে দলীয় নয়, জাতীয় ইতিহাস চান নাহিদ ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক : জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইতিহাসে সীমাবদ্ধ না রেখে গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই জাদুঘরটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর এটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রদর্শনীর কিছু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার দাবি, সীমান্ত হত্যা ও ফেলানী হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এসব বিষয় সরানো হয়েছে, তা তার জানা নেই। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে জাদুঘরের কিছু প্রদর্শনীতে বিএনপির ওপর নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। পরিচিত কিছু ব্যক্তিকে বারবার সামনে আনার কারণে অভ্যুত্থানের সামগ্রিক চিত্রও পুরোপুরি ফুটে উঠছে না।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এর আগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হতে দেখা গেছে। জুলাইয়ের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়।
জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
জাদুঘরটিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন তিনি। তার মতে, আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হলে এর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে জাদুঘর পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর জাদুঘরের প্রদর্শনীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে বলে জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার প্রতিষ্ঠান। তাই কোনো রাজনৈতিক পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে আন্দোলনের বাস্তবতা, মানুষের অংশগ্রহণ ও ত্যাগের নির্ভুল ইতিহাস এখানে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।











