সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে আন্দোলনে নতুন গতি আনতে বিভিন্ন মাধ্যমে সক্রিয় হন বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য থেকে তিনি নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নানা নির্দেশনা দেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের কারণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে চাপ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে তারেক রহমানের আশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন।

ওই দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠন তাদের মুক্তির দাবি জানায়।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার দায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের দমনে সরকার কঠোর দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

একই সময়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তারা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়।

আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবির মধ্যে ছিল—আটক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদসহ সব শিক্ষার্থীর মুক্তি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৮ জুলাই থেকে অনলাইন-অফলাইন প্রচারণা, বিভিন্ন দূতাবাসে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং সারাদেশে দেয়াল লিখন কর্মসূচি চালানোর কথা জানানো হয়।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সংঘর্ষ ও সহিংসতায় ২৬৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ‘হেলথ ফোর্স’ ও আইনি সহায়তার জন্য ‘লিগ্যাল ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে আটক তিন সমন্বয়কের খোঁজ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের একটি প্রতিনিধি দল ডিবি কার্যালয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে ডিবিপ্রধান সাক্ষাৎ করেননি বলে জানা যায়।

অন্যদিকে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সে সময় সংকট সমাধানে দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দেন। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস যৌথভাবে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানায়। পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তার কাছেও উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দেন বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা।

এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কারফিউ জারি করে এবং ধাপে ধাপে এর সময়সীমা শিথিল করে। রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে কারফিউ অব্যাহত থাকবে।

এ জাতীয় আরও খবর

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন

এক বছর পর চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

আরেকটি ট্রফি এনে দিতে পারলাম না’