,

শিশু ধর্ষণ মামলায় গাফিলতি, ভুল স্বীকার করে চিকিৎসক-পুলিশের ক্ষমা প্রার্থনা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১১ বছর বয়সী আরেক শিশুর বিরুদ্ধে করা মামলায় নির্যাতিতা শিশুর ডাক্তারী পরীক্ষা এবং তদন্তে গাফিলতির ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, হাসপাতালে হাজিরা দিতে এসে আমাদের জীবন আপনারা ক্লার্ক, পিয়নের ওপর ছেড়ে দিয়ে ব্যক্তিগত প্রাকটিসে নেমে পড়েন। একারণে এমনটা হবেই। কিন্তু এটা আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।

আদালত তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, যেখানে ধর্ষণ হয়েছে কীনা তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারপরও যদি ধরেও নিই যে, ১১ বছরের শিশুটি ধর্ষণ করেছে। তারপরও কি তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া যায়? অথচ আপনি সেটা দিয়ে দিলেন। ভাবতে পারেন, এর ফলে ছেলেটির কি হতে পারে? যেখানে আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমানিত হলে শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন। আদালত আগামী ১১ মার্চ পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিছুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহসহ ১২ পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিৎসক হাজির হয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে আর এরকম ভুল হবে না বলেও আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম। চিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকির উদ্দিন ভুইয়া। আসামিপক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে।

৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় ১১ বছর বয়সী শিশুর জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে ডাক্তার প্রতিবেদনে অসংগতি, নারী ও পুরুষের রিপোর্টের জন্য আলাদা আলাদ ফর্ম থাকলেও এক্ষেত্রে অভিন্ন ফর্ম ব্যবহার করা ও তদন্তে গাফিলতি ধরা পড়ায় হাইকোর্ট গত ১৭ জানুয়ারি এক আদেশে এসপিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনসহ ৯ চিকিৎসককে তলব করেন। এ আদেশে সংশ্লিষ্টরা আদালতে হাজির হয়ে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

গতবছর ১১ সেপ্টেম্বর নির্যাতিতার পিতা নাসিরনগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, ৪ সেপ্টেম্বর তার ৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মামলায় আসামির বয়স উল্লেখ করা হয় ১৫ বছর। আদালত সুত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে পরদিন নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় এবিষয়ে ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডাক্তারি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে একাধিক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এ মামলার আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করে। এই জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে ত্রুটি উঠে আসে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

এ জাতীয় আরও খবর

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা

সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে হুতি

রসদ সংকট ও সামরিক প্রস্তুতিহীনতায় দিশেহারা মার্কিন সেনা: দ্য ইন্টারসেপ্ট

র‌্যাব বিলুপ্ত, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল এসআরবি

জনগণ যেমন আইন চায় তেমন আইনই আনবে সরকার : আইনমন্ত্রী

জনবল বাড়িয়ে ভোক্তা অধিকার সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউইয়র্কে উপসাগরীয় নেতাদের নিয়ে ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক