মেধা ও অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সন্তানরা মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সম্মাননা জানানো হয়। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাফল্য উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের এই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের জন্যও সম্মানের বিষয়। তাদের অর্জন বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের জন্যও আনন্দ ও গৌরবের।
হাফেজদের সম্মাননা দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর কোরআন হিফজকারীদের আন্তর্জাতিক সাফল্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত ও সম্মান জানানো হচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং উৎসাহ দেওয়া হলে তার সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ পাবে। এতে দেশের মানুষও উপকৃত হবে।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা তারই একটি অংশ।
শিক্ষকদের সমস্যার সমাধানে আশ্বাস : অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শোনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। সম্ভাব্য সুযোগ ও সামর্থ্যের মধ্যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথাও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি : ভবিষ্যতে দেশের হাফেজরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামনে এ ধরনের আরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী জানালে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের জন্যও সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—সরকার সেটিই প্রত্যাশা করে।
শান্তি ও পরিবর্তনের জন্য ঐক্যের আহ্বান : দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালো থাকার লক্ষ্য সবার অভিন্ন।
দেশের মানুষ যেন মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে সরকারের প্রতি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
চার হাফেজের আন্তর্জাতিক সাফল্য : সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের চার হাফেজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন।
হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রতিযোগিতায় যে সুরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন ও মাওলানা রফিকুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।











