আইপিইউ তদন্তে আ. লীগের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি: স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তৈরি হওয়া ভুল ধারণা দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তাঁর দাবি, ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগের তোলা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং কালো তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তানজানিয়ায় আইপিইউর সম্মেলন শেষে রোববার সকালে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার জানান, গত এপ্রিলে ইস্তাম্বুলে আইপিইউর ১৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংস্থাটির সদস্যরা বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁদের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁদের আগের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী এক বছর বাংলাদেশের স্পিকার এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এপিজির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ভুটানের স্পিকার টেম্পা দর্জির কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।
স্পিকার বলেন, ৫ থেকে ৯ অক্টোবর তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিত আইপিইউর সম্মেলনে বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের সময় অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, বাহরাইন, ভুটান, কানাডা ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া আইপিইউর মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা করেছে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল।
স্পিকারের সফরসঙ্গী হিসেবে সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে ছিলেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁদের স্বাগত জানান।
তবে আইপিইউর তদন্তের ফলাফল এবং বাংলাদেশের নাম কালো তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পিকারের বক্তব্যই এখানে তুলে ধরা হয়েছে; এ বিষয়ে সংস্থাটির মূল প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।










