,

ঈদের পর ব্যাংকে ফিরল নগদ টাকা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার পর মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের একটি অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনে এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ কমেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে এক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাস শেষে মানুষের হাতে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ছিল ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে ১২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, মে মাসে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, যা ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি।

দুই ঈদকে ঘিরে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণে বড় ধরনের ওঠানামা হয়েছে। রোজার ঈদের মাস মার্চে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছিল ১৬ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। ঈদের পর এপ্রিল মাসে তা আবার কমে যায় ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা।

তবে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মে মাসে নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল আরও বেশি। ওই মাসে মানুষের হাতে থাকা ব্যাংকের বাইরের নগদ অর্থ বেড়েছিল ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। গবাদিপশু কেনাবেচা, হাটের লেনদেন এবং ঈদকেন্দ্রিক বিভিন্ন খরচের কারণে এ সময় নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। জুনে ঈদ শেষ হওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে ফেরত আসায় নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে।

তবে এক বছরের হিসাব করলে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ এখনও বেশি রয়েছে। গত বছরের জুনে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে ৩৯ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

জুনে আমানত বৃদ্ধির পরিমাণও আগের কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। মে মাসে ব্যাংকের আমানত বেড়েছিল মাত্র ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা এবং এপ্রিলে ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এর আগে মার্চে আমানত বেড়েছিল ৩৭ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবেও জুনের ৩৮ হাজার ১৯৭ কোটি টাকার বৃদ্ধি বেশি।

তবে আমানত বাড়লেও বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। গত বছরের জুনে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। এক বছর পর তা বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যেখানে মে মাসে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাত নিয়ে মানুষের আস্থার সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে এখনও ব্যাংকের পরিবর্তে হাতে নগদ অর্থ রাখাকে নিরাপদ মনে করছেন। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধান, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।