অনলাইন ডেস্ক : সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে এসব যানবাহনের নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের অন্যতম শর্ত হিসেবে এসব যানবাহন সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করার বিষয়টি রাখা হবে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের পরিবর্তে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া বা নবায়ন করা হবে না। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান মীর শাহে আলম। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে জোন থাকবে। একটি জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণের পাশাপাশি চলাচল নিয়ন্ত্রণে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। কোন সড়কে এসব যান চলবে এবং কোন সড়কে চলতে পারবে না, তা বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে।
বিধিমালার শর্ত বা জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থা অমান্য করলে জরিমানা করা হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে। নিবন্ধনের সময় প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোড যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিধিমালা তৈরির প্রাথমিক বৈঠক ইতোমধ্যে হয়েছে। এতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালা জারি হলে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।