,

১৮০ দিনে সরকারের ১০ অর্জন তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন

news-image

অনলাইন ডেস্ক : সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের ১০টি দিক তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে তিনি সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

মাহ্‌দী আমিনের বক্তব্যে সরকারের প্রধান সাফল্যগুলোর মধ্যে জনগণের সমর্থন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, অবকাঠামো ও পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ শুরু করেছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে বলে জানান তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও কর্মসংস্থান বিনিময়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

সরকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গে মাহ্‌দী আমিন বলেন, বাক্‌স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালানোর কথাও জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহ্‌দী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অতীতের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়ানো, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, দরিদ্র রোগীদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ, ফ্রি ওয়াইফাই, মিড-ডে মিল এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগের কথা জানান।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ, ইনোভেশন, দক্ষতা উন্নয়ন ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং বিদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাহ্‌দী আমিন দাবি করেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে জনবান্ধব করার পাশাপাশি অপরাধ দমনে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি এবং বিভিন্ন অপরাধে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অবকাঠামো ও পরিবেশের ক্ষেত্রে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, ইলেকট্রিক বাস, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে সরাসরি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।