,

ছাত্র রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল

news-image

অনলাইন ডেস্ক : দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে সংসদের বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছিল। আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে।

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ার সময় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ষাটের দশকে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন।

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ওই সময় তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন তিনি। পরে ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

রাজনৈতিক পরিবার

মির্জা ফখরুলের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভূমি, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকারও ছিলেন।

আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস.আর. মির্জা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই কন্যা রয়েছে।

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে যার রাজনৈতিক পথচলা শুরু, সরকারি চাকরি, পৌর রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এবার সেই মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।