অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনে আহত অনেক মানুষের জীবন এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। কেউ হারিয়েছেন চোখ, কেউ পা, আবার কেউ শরীরে গুলির স্প্লিন্টার নিয়েই প্রতিদিন যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছেন। তাদের অভিযোগ, একসময় খোঁজ নেওয়া হলেও এখন অনেকেই তাদের ভুলে গেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানে ১১ জন নিহত এবং ৫৫৫ জন আহত হন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন এখনও গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। যদিও বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা ছিল, আহতদের অনেকেই বলছেন প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও পুনর্বাসনের সুযোগ এখনও নিশ্চিত হয়নি। মাসিক ভাতাও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে যথেষ্ট নয়।
হাটহাজারীর মোহাম্মদ দিলদার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে একটি পা হারান। পরে কৃত্রিম পা পেলেও সেটি নিয়মিত পরিবর্তনের খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পেতেন এবং খোঁজ নেওয়া হতো, কিন্তু এখন কেউ তার খবরও রাখে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভ হোসেনও গুলিবিদ্ধ হয়ে একটি চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। অন্য চোখেও খুব সীমিতভাবে দেখতে পান। তার ভাষায়, অনেক আহত ব্যক্তি এখনও চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে গুলিবিদ্ধ হওয়া তানভীরের অবস্থাও সংকটপূর্ণ। মাথায় গুলি লাগায় তার লালাগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই বছর ধরে সে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে না এবং তরল খাবারের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসকদের মতে, তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যা দেশে সম্ভব নয়।
পোশাকশ্রমিক রায়হানও আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার দুই হাতে এখনও শত শত ধাতব স্প্লিন্টার রয়ে গেছে, যা স্নায়ুক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আহতদের সহায়তায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, চিকিৎসা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয়বহুল ওষুধ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক রোগী ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের মতে, বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে সেই সুবিধা পেতে অনেক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জটিল অস্ত্রোপচার বা বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রুত সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে এবং কেউ বাদ পড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।