২ হাজার একর খাসজমি অবৈধভাবে দেওয়ায় ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২৭, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : বরিশালের হিজলা উপজেলায় প্রায় ২ হাজার একর সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর এবং খাজনা গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তে উঠে এসেছে, হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে হোল্ডিং খুলে দিয়ে খাজনা আদায় করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া আরও ২২২ একর জমি অবমুক্ত করেছেন। এছাড়া কয়েকটি নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে ২২ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এদিকে, অবৈধভাবে হস্তান্তর হওয়া খাসজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিজলা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমি সরকারি নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অবশিষ্ট জমির বিষয়ে যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।