অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীতে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পর সক্রিয় শুটার ও ভাড়াটে খুনিদের তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত করা ৪০১ জনের তালিকায় নতুন করে গ্রেপ্তার ও পলাতক অপরাধীদের তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তালিকাভুক্তদের বেশিরভাগই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য ধরে রাখতে টার্গেট ব্যক্তিদের হত্যা করে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভাড়াটে খুনি ও শুটারদের তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, মতিঝিলে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি ও গুলির ঘটনায় তিনটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীর নাম নতুন তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে তৈরি ৪০১ জনের তালিকায় সুব্রত বাইন, সানজিদুল হাসান ইমন, পিচ্চি হেলাল ও জিসানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের নাম রয়েছে। দেশ-বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের অনুসারীদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে মতিঝিল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৬ জন শুটার ও ভাড়াটে খুনির তথ্য রয়েছে। এরপর ওয়ারী বিভাগে ৭৩ জন, তেজগাঁওয়ে ৬১ জন, মিরপুরে ৬০ জন, রমনায় ৩৬ জন, লালবাগে ২৪ জন, গুলশানে ১৬ জন এবং উত্তরা বিভাগে ১৩ জন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে রাজধানীতে ১২২টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডে পেশাদার সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির বিরোধের সূত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে।
এছাড়া ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনায় পিচ্চি হেলালকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সানজিদুল হাসান ইমনকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ।
সর্বশেষ মিরপুর-১৩ এলাকায় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে একজন নিহত ও দুজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে আটক অস্ত্রধারী চঞ্চলের জবানবন্দিতে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহ থেকে কয়েকজনকে ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, তালিকা তৈরির পাশাপাশি এসব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাদের ভাষ্য, শুধু শুটার নয়, যারা হত্যার পরিকল্পনা করে, অর্থ জোগায় বা আশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভাড়াটে খুনের প্রবণতা কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এর আগেও বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডে পেশাদার শুটার ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানকারী সন্ত্রাসীদের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।