অনলাইন ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রচার ও রপ্তানি বাড়াতে বিশ্বের ৮১টি বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে ‘জুট কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বন্ধ পাট ও বস্ত্রকল চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও বস্ত্রকলগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে উৎপাদন পুনরায় শুরু করার কাজ চলছে। মামলাজট ও অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব সমস্যা কাটিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, বিজেএমসি ও বিটিএমসির অধীন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বেশ কয়েকটি মিলে ইতোমধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছে এবং কয়েকটি কারখানায় উৎপাদনও শুরু হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভবিষ্যতে সব মিল চালু হলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাটশিল্পের উন্নয়নে উন্নত জাতের পাটবীজ উদ্ভাবন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট দূর করা এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি অফিস, ব্যাংক, শপিংমল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাটপণ্য প্রদর্শনের জন্য বিশেষ কর্নার স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিশ্বের ৮১টি বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে ‘বাংলাদেশ প্রোডাক্ট কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে পাটজাত পণ্য প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক জুট এক্সপো আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ পাটের স্কুলব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি বিদ্যালয়ে বিতরণ শুরু হবে, পরে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়ানো নয়, বরং কৃষক, শিল্প ও রপ্তানি—সব খাতকে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী করে সোনালি আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা।