বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প-প্রবাসী সংযোগে নতুন উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ তিনি এ ঘোষণা দেন।
‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাহ্দী আমিন বলেন, শুধু সেমিকন্ডাক্টর নয়, দেশের প্রতিটি শিল্পখাতের উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রবাসীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ক্লাব, প্রশিক্ষণ, সেমিনার এবং আধুনিক শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো প্রযুক্তিকে বাস্তবমুখী শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
উচ্চশিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল, যৌথ গবেষণা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের ভিজিটিং লেকচারের সুযোগ বাড়ালে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।
গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণাগার ও আধুনিক গবেষণা সুবিধার অভাব রয়েছে। এ কারণে গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, ল্যাব স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে ব্রেইন ড্রেনকে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের মাধ্যমে দেশীয় মেধা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাহ্দী আমিনের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রয়োগমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবিড় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে।










