হাইটেক পার্ক উন্নয়ন, বায়োটেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক : দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়ন এবং নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেক্ট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স (বিইএআর) সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ নীতি সহায়তা, কর সুবিধা, বন্ডেড সুবিধা, উন্নত অবকাঠামো এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি নতুন শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি করছে। আধুনিক সভ্যতার প্রায় সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রোচিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এআই, রোবোটিক্স, ডাটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্প কারখানা ও মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এআই, উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং, ইলেকট্রিক যান, স্মার্ট ডিভাইস, ৫জি ও ৬জি প্রযুক্তি এবং অটোমেশন ব্যবস্থার কারণে চিপের চাহিদা বাড়ছে। এই বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, প্রশিক্ষণ, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং খাতে কাজ শুরু হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, সরকার সেমিকন্ডাক্টর খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। এ খাতের উন্নয়ন কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় উদ্যোগ।
তিনি আরও জানান, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার, ডিজাইন সার্ভিস রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার উদ্যোগ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোডশোর আয়োজন প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বাধা মোকাবিলায় সরকার সংশ্লিষ্টদের পাশে থাকবে।











