শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় যেভাবে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে জমা দেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি এই পদে থাকতে পারেন না। রাষ্ট্রপতির পদ সাধারণত তিনটি কারণে শূন্য হতে পারে—মেয়াদ শেষ হওয়া, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ অথবা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

নির্বাচনের সময় সংসদ অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেন। নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে তফসিল ঘোষণা করে। এতে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক ও আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থী সংসদ সদস্য না হলেও নির্বাচন করতে পারবেন।

বাছাই শেষে যদি একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী বিজয়ী হন। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন। এরপর গত ৩৬ বছরে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।