অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসের দায়িত্বকালে একের পর এক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে নির্বাচিত বিএনপি সরকারেরও শপথ পড়ান। শেষ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আসে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার পদে বহাল থাকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে তাকে অপসারণের দাবি উঠলেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার যুক্তিতে বিএনপি তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকেন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভাবিক বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়নের পর থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, পরে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন এবং ১৯৭৫ সালে বাকশালের জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকার তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হয়।
আইনগত দিক থেকেও তার রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান হওয়া এবং পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়। তবে আদালত সেই রিট খারিজ করে দেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে তার দুই ধরনের বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। প্রথমে তিনি জানান, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার কাছে সেই পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক কপি নেই। এ বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার পদত্যাগের দাবিতেও বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নিয়ে টানাপড়েনের খবর সামনে আসে। ২০২৫ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনের পর মাঝপথেই পদত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি অপসারণ এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘ সময় সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়গুলোও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্ক, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন।