শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন সাহাবুদ্দিন

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। সে সময় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তার দাবি, পুরো সময়ে তার ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেনি।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। এছাড়া সম্প্রতি তার শরীরে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব শারীরিক সমস্যার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও পদত্যাগপত্রে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে এর আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। এর আগে ২০২৫ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পর পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পরও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল ছিলেন। পরে তাকে অপসারণের দাবিও বিভিন্ন সময়ে উঠেছিল।