বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব নীতির প্রতিফলন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘বেইলা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে এমন একটি নীতি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে উদ্যোক্তা তৈরি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম এমন একটি পরিবেশ চায় যেখানে তাদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকবে। সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্সের (বেইলা) আয়োজনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, শিল্পনেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বন্ডেড সুবিধার প্রক্রিয়া সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে নতুন সরকার এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

রাজস্ব আদায় ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। উন্নয়ন কার্যক্রমে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং তরুণ মানবসম্পদের উন্নয়ন। এ কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পোশাক খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন কর্মসংস্থান কমিয়ে না দেয়, সে বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পণ্যের নকশা, গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির সংযুক্তি প্রয়োজন। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব।

সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউসের নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে এবং রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সুবিধা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, সৎ ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেওয়া এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বড় শক্তি হলো তরুণ জনগোষ্ঠী, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা। এসব সুবিধা কাজে লাগাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধান এবং বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে উদ্যোক্তারা সহজে কাজ করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুততর হবে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এ জাতীয় আরও খবর

দিল্লির বিক্ষোভে আতঙ্কিত ছিলেন কঙ্গনা

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির

নগদ টাকার প্রবাহে বড় উত্থান, ব্যাংক খাতে বাড়ছে চাপের শঙ্কা

তারল্য ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন

কোটা আন্দোলন ঘিরে গ্রেপ্তার ১২শ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী

আটকের পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতারা

ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া

সংকটে দেশের অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণে বাড়ছে ঝুঁকি

১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

রাজপ্রাসাদে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে সংবর্ধনা

ট্রফি চেটে আলোচনায় ইয়ামালের ছোট ভাই