,

সংকটে দেশের অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণে বাড়ছে ঝুঁকি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : অভ্যন্তরীণ চাপ ও বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা দারিদ্র্য এবং ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ হলে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকার।

একটি সরকারি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণের সময় বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিযোগী দেশগুলো এসব বাজারে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পেলে বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধা হারিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত করছে। পাশাপাশি শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিষয়ে মার্কিন নীতিমালা কঠোর হওয়ায় রপ্তানি খাতে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এতদিন শুল্কমুক্ত সুবিধা, কোটামুক্ত বাজার সুবিধা ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত কিছু ছাড় পেয়েছে। উত্তরণের পর এসব সুবিধা কমে গেলে তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো চাপে পড়তে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সাল থেকে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিকল্পনাও নিয়েছে। এতে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিনিয়োগের নিম্নগতি, জ্বালানি সংকট এবং শিল্প উৎপাদনের সমস্যার মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি

‘জেলার ২’ ১১ দিনেই ৭০০ কোটি আয়

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২২১৮

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাকে অপসারণের দাবি টিআইবির

৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ চলছে : হুইপ দুলু

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

মানবতাবিরোধী অপরাধ: প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আজম-আমু-শাজাহান

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

গোলাপি আভায় জয়া আহসান