ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল, বিমান ও পর্যটনে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২১, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, উন্নত যাত্রীসেবা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে খাতে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে দ্রুত চেক-ইন, আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বোয়িংয়ের ১৪টি ও এয়ারবাসের ১০টিসহ মোট ২৪টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর লিজে আরও পাঁচটি উড়োজাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিমানকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, নতুন ব্যবসায়িক কৌশল এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর আগে প্রতিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানি কমাতে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ চালু হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, ব্যাগেজ রিকনসিলিয়েশন সিস্টেম ও ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পর্যটন খাত প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আন্তর্জাতিক প্রচারণা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ই-ভিসা, মেডিক্যাল ভিসা এবং ধর্মীয় পর্যটন ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারসহ সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কর-সুবিধা, সহজ ঋণ, ওয়ান-স্টপ সেবা এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কক্সবাজার ও সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগও চলমান।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আধুনিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থা ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের লক্ষ্য। আগামী এক বছরের মধ্যেই বিমান ও পর্যটন—উভয় খাতে জনগণ দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।