ঢাকাজুড়ে ‘ফুটবল জ্বর’, বড় পর্দার খোঁজে সমর্থকরা
রাত যত গভীর হচ্ছে, ঢাকার ফুটবল উন্মাদনাও ততই বাড়ছে। কোথাও শেষ মুহূর্তে টানানো হচ্ছে প্রজেক্টরের পর্দা, কোথাও চলছে সাউন্ড সিস্টেম পরীক্ষা। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের জার্সি গায়ে তরুণেরা ফোনে বন্ধুদের জিজ্ঞেস করছেন, ‘তুই কোথায় খেলা দেখবি?’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ওয়াচ পার্টির আমন্ত্রণ, পোস্ট আর হ্যাশট্যাগের বন্যা।
রোববার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল শুরু হবে। ম্যাচ শুরুর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে সন্ধ্যার পর থেকেই দর্শকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কোকা-কোলা বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেখানে বড় পর্দায় হাজারো দর্শকের একসঙ্গে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আগেভাগেই এসে জায়গা দখল করে রাখছেন।
টিএসসির পাশাপাশি হাজী মুহম্মদ মহসীন হলেও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ফুটবলার শেখ মোরসালিন উপস্থিত থাকবেন।
শুধু টিএসসি নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, হলপাড়া এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় পর্দায় ফাইনাল দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেরই মন্তব্য, পরীক্ষার চাপ বা অন্য ব্যস্ততা ভুলে আজকের রাতটা শুধু ফুটবলের।
মিরপুরেও উৎসবের কমতি নেই। সিটি ক্লাব মাঠ ও মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ডে বড় পর্দা বসানো হয়েছে। স্থানীয় তরুণেরা বিকেল থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে।
বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কেও খোলা আকাশের নিচে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে থাকবে সংগীত পরিবেশনাও।
যারা অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক পরিবেশে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে বিশেষ ওয়াচ পার্টির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, লেকশোর গ্র্যান্ড, হোটেল আমারি ঢাকা, লে মেরিডিয়ান, ক্রাউন প্লাজাসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে। গুলশানের এলিট কনভেনশন হল, তেজগাঁওয়ের আর্টিসান ওয়াচ পার্টি এবং মিরপুরের আইসিসিএল কনভেনশন হলেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। তবে এসব ভেন্যুতে প্রবেশের জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
এসবের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন মহল্লা ও আবাসিক এলাকাতেও স্থানীয় উদ্যোগে প্রজেক্টর বসিয়ে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও চেয়ার সাজানো হচ্ছে, কোথাও টানানো হচ্ছে ব্যানার। অনেক জায়গায় পরিবার নিয়ে খেলা দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জার গ্রুপে চলছে কোন ভেন্যুতে সবচেয়ে ভালো আয়োজন, কোথায় সবচেয়ে বড় পর্দা-এসব নিয়ে আলোচনা। অনেকে দলীয় জার্সি পরে ছবি পোস্ট করে জানিয়ে দিচ্ছেন, কোথায় বসে তারা ফাইনাল উপভোগ করবেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে সমর্থকদের উপস্থিতিও বাড়ছে। কোথাও আর্জেন্টিনার পতাকা, কোথাও স্পেনের জার্সি। আবার অনেক জায়গায় দুই দলের সমর্থকেরা একই সারিতে বসে ফুটবলের উৎসব উপভোগের অপেক্ষায়।
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই শিরোপা নির্ধারণের লড়াই। ঢাকার হাজারো ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়; প্রিয় দলকে সমর্থন, একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি এবং ফুটবলকে ঘিরে আরেকটি স্মরণীয় রাতের সাক্ষী হওয়ার উপলক্ষ।











