অনলাইন ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে কাঁদিয়ে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে শিশুটির মুখে বারবার বেত দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার শিক্ষক ইমরানের প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশু কান্না করছে এবং শিক্ষক তার মুখে বারবার বেত ধরিয়ে দিচ্ছেন। শিশুটি হাত দিয়ে বেত সরানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষক তা চালিয়ে যান। এ সময় ভিডিওতে শিক্ষকের হাসির শব্দও শোনা যায়।
ভিডিওটির সঙ্গে শিক্ষক একটি মন্তব্যও লিখেছিলেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেন এবং নিজের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেন।
এরপর শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ইমরান হোসেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটি পরীক্ষার সময় উত্তর দিতে না পেরে কান্না শুরু করেছিল। কান্না থামানোর জন্য মজা করে তার মুখের কাছে বেত ধরেছিলেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, তিনি শিশুটিকে মারধর করেননি, তবে ঘটনাটি যেভাবে দেখা হয়েছে তা তিনি ভাবতে পারেননি।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইমরান হোসেন টিকটক ও রিলসের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং অপ্রয়োজনীয় শাস্তি দেওয়ার অভিযোগে প্রায় দুই মাস আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, শিক্ষক হিসেবে ইমরানের আচরণ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পরিবর্তন না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে এলাকায় নেই এবং মাদ্রাসাটিও প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।