,

২ শিশু ধর্ষণের পৃথক মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

news-image

আদালত প্রতিবেদক : ‎রাজধানী যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় ১২ বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো. বাচ্চু (২৫) ও মো. আব্দুল গাফফারের (৫৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে, রামপুরা থানাধীন এলাকায় ৫ বছরের শিশু ধর্ষণের আরেক মামলায় আসামি মো. বাচ্চু মিয়া হওলাদারের (২৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

‎সোমবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম কবির এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেকের এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. বাচ্চুকে কারাগার থেকে আদালত হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি মো. আব্দুল গাফফার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

‎অপর মামলার আসামি মো. বাচ্চু মিয়া হওলাদারের উপস্থিততে রায় ঘোষণা হয়। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।

‎বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার ২ নম্বর আসামি আব্দুল গাফফার বাদীর বর্তমান ঠিকানার বাড়িওয়ালার ম্যানেজার। আসামি বাচ্চু ও আব্দুল গাফফার পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা প্রায় সময় ভুক্তভোগী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে উত্যক্তসহ কু-প্রস্তাব দিত। ভুক্তভোগী বাদীকে তাদের কু-প্রস্তাবের কথা জানাইলে আসামিদের বিরক্ত না করার জন্য অনুরোধ করেন।

২০২০ সালের ১৬ অক্টোবর মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা দুজনেই তাদের কর্মস্থলে চলে যায়। ওইদিন বিকেল ৩টায় আসামিরা ভুক্তভোগীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।

পরে ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বললে ভুক্তভোগীকে জীবনে শেষ করে দেবেন বলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেখান। ওই ঘটনায় ভিকটিমকের মা বাদী হয়ে যাত্রীবাড়ী থানায় মামলাটি ধর্ষণের অভিযোগ মামলাটি দায়ের করেন।

‎মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্ত, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পুলিশ পরিদর্শক তাসলিমা আক্তার আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ১৮ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যেনয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

‎৫ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল রামপুরার এক বাসার নিচে গ্যারেজে রান্না করতেন ভুক্তভোগীর মা। ওইসময়ে আসামি বাচ্চু মিয়াকে ভুক্তভোগী ৫ বছরের শিশু একটা ঠান্ডা এনে দেওয়া কথা বলে। এসময় ভুক্তভোগী আসামির কাছে গেলে তাকে তার বাসার রুমে নিয়ে যায়। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ফিরতে দেরি হলে মামলার বাদী আসামির রুমে ঢুকে দেখে তার শরীরের কাপড় খোলা।

এসময় বাদী ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞেসা করলে, ভুক্তভোগী বলে বাচ্চু মিয়া আমার সাথে ‘খারাপ কাজ’ করেছেন। পরে আশপাশের লোকজনদের ডাকলে আসামি পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

‎মামলাটি তদন্ত করে রামপুরা থানার উপপরিদর্শক মকুল মিয়া ২০২১ সালের ৩১ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ১৬ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ড. ইউনূসকে হেনস্তা, শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির

নবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২৪ জেলের কারাদণ্ড

ডেঙ্গু রোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের সময় বাড়ল

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৫৪

পুলিশি পাহারায় চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকারের নিন্দা

৩৫ বছরের বেশি বয়সে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু

হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে