,

ভাগ্নেকে ফাঁসাতে ৫২ হাজার টাকায় চুক্তি করেন বিএনপি নেতা

news-image

রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীতে জমি নিয়ে বিরোধে ভাগ্নেকে হেরোইন দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই টুনু (৬৯)। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা টুকু একই উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

এদিকে নিজের ভাগ্নে বাবর আলী ওরফে ছবিকে (৫০) হেরোইন দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশ টুনু ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ছবির বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার নতুন কসবা গ্রামে।

গত ৫ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পবার হরিপুর এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক বাবর আলীকে আটক করেন দামকুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর আকন্দ। পরে তার অটোরিকশার সিটের নিচে ১০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এসআই আলী আকবর একটি মামলা করেন। মামলার পর বাবর আলীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসআই শাহাদত আলী অন্য ঘটনা খুঁজে পান। এরপর বাবর আলীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তার মামা আবদুল হাই টুনু, সানোয়ার হোসেন মান্নান ও মো. মোমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তারা বাবর আলীকে ফাঁসানোর কথা স্বীকার করেন। এরপর ১১ জুন তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সার্বিক বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবর আলীর সঙ্গে তার মামা আবদুল হাই টুনুর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। তাই টুনু তার ভাগ্নেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে ৫২ হাজার টাকার চুক্তি করেন। চুক্তির পর সানোয়ার তার পরিচিত মোমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং হেরোইন কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা দেন। পরিকল্পনা মাফিক মোমিন ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ৪ জুন বাবর আলীর বাড়ির বাইরে অটোরিকশার সিটের নিচে হেরোইন রেখে আসেন। এরপর ৫ জুন সকালে মোমিনের সহযোগী মো. রাহাত (২৩) নামের আরেক যুবক ফোন করে বাবরকে অটোরিকশা নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় রাহাত অসুস্থতার ভান করে সানোয়ারকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বাবরের অটোরিকশায় ওঠেন। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। অভিযুক্ত টুনু জমি জালিয়াত চক্রের একজন হোতা। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই পাঁচটি মামলা চলমান বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাবর আলীর স্ত্রী আফরোজা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার পর তিনি থানায় গিয়ে এসআই আলী আকবর আকন্দের কাছে কান্নাকাটি করেন। তখন তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন এসআই আলী আকবর। এ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই জানালে পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি রাজশাহী নগর পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা জোনের উপকমিশনার বিভূতিভূষণ ব্যানার্জির কাছে যান। তিনি সবকিছু শুনে তদন্ত কর্মকর্তাকে সঠিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিলে আসল রহস্য বের হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আলী আকবর আকন্দ দাবি করেন, অটোচালক বাবরকে যে ফাঁসানো হয়েছে তা তিনি জানতে পারেননি। পরে রহস্য বের হয়ে এলে অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। বাবরকে ফাঁসাতে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। বাবরের স্ত্রীর কাছেও টাকা দাবি করা হয়নি বলে দাবি তার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদত আলী বলেন, বাবর আলী নির্দোষ। অভিযোগপত্র থেকে তাকে বাদ দেওয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না

আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

ভেনিস ও টরন্টোর পর এবার লন্ডন উৎসবে বাংলাদেশের এই সিনেমা

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত