,

স্কুলে আসেননি শিক্ষকরা, ক্লাস নিলেন কলেজছাত্র

news-image

শাহীন আক্তার পলাশ,শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)
ঘড়িতে বেলা ১১টা। এরপরেও শ্রেণিকক্ষে হাজির হননি শিক্ষকরা। এই সুযোগে শিশু শিক্ষার্থীদের একটা অংশ শ্রেণিকক্ষে হৈ চৈ করতে ব্যস্ত। আরেকটা অংশ খেলছে বিদ্যালয় মাঠে। বিষয়টি দেখে এগিয়ে এলেন রনি নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী। তিনিই পড়ালেন শিক্ষার্থীদের। ঘটনাটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ১৫৮ নম্বর যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরেই শিক্ষকরা সময় মেনে স্কুলে আসছেন না। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম। এ বিষয়ে শিশু শিক্ষার্থী রাকিবের ভাষ্য, ‘স্যাররা দেরি করে আসে। মাঝে মাঝে আসেও না।’ কলেজশিক্ষার্থী রনি বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ঠিকমতো হাজির হয় না। বেলা ১১টায়ও তারা স্কুলে না আসায় বিবেকের তাড়নায় আমি ক্লাস নিতে বাধ্য হয়েছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল শনিবার বিদ্যালয়টিতে শুধু একজন শিক্ষিকা হাজির ছিলেন। যিনি হাজির হয়েছেন তিনি শ্রেণিকক্ষের ভেতর খাট আর তোষক পেতেছেন। ব্যস্ত ছিলেন সন্তান পালন নিয়ে। ফলে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ থাকে, তা সেখানে দেখা যায়নি।

যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার বিশ্বাস ফোন করে শিক্ষককে ডাকছিলেন। ছবি: আমাদের সময়

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেউ ১১টায়, কেউ ১২টায় বিদ্যালয়ে যান। কেউ কেউ একেবারেই অনিয়মিত। বিদ্যালয়ে কোনো সরকারি নিয়ম মানা হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টির অনেক শিক্ষকের বাড়ি প্রতিষ্ঠানটির পাশেই। কিন্তু তারা কৃষি ও পারিবারিক কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

গতকাল এই প্রতিবেদকের ওই বিদ্যালয়ে যাওয়া দেখে প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার বিশ্বাস ফোন করে একজন শিক্ষককে ছুটির আবেদন নিয়ে স্কুলে আসার তাগিদ দেন। সে অনুযায়ী ছুটির আবেদন নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হন সহকারী শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। ক্লাস নিতে দেরি করে আসার কারণ জানতে চাইলে প্রকাশ চন্দ্র বলেন, ‘বাড়িঘর ভেঙে গেছে। বাড়ির কাজ করছিলাম।’ যদিও প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সময়মতো স্কুলে উপস্থিত না হওয়া একটা অন্যায় কাজ।’

বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে আমার কাছে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অপরদিকে ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টির দায়িত্বে আছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাজনাজ পারভীন। তিনি বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন আটকের দাবি ইরানের

বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিচার চায় এনসিপি

গ্যাস সংকট দ্রুত কাটবে, বললেন রিজভী

ভর্তুকি নেই, নিম্নমানের খাবারে ভোগান্তি বেরোবি শিক্ষার্থীদের

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ, বিচারের আশায় স্বামী

ফ্যাসিস্টের থেকে মুক্তি মিললেও মূল্য দিতে হয়েছে অনেক: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আশুলিয়ায় ট্রিপল হত্যার কারণ জানাল পিবিআই

তিন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালত বর্জন আইনজীবীদের

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে ওমান