রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরুর প্রাণী দুম্বার খামার বগুড়ায়

news-image

প্রদীপ মোহন্ত,বগুড়া
মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা এখন লালনপালন করা হচ্ছে বগুড়ার শাজাহানপুরে। ২০১৯ সালে ১০টি দুম্বা নিয়ে শুরু হয় এই কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে বগুড়া টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারে বর্তমানে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িছে ২১টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পারশিয়ান জাতের ১টি ও আওয়াসি জাতের ২০টি দুম্বা। লিফ্ট প্রজেক্টের সহযোগিতায় আগামীতে ব্যাপক আকারে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালনে সফলতার মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন খামারিরা। আসন্ন কোরবানির ঈদে এই খামার থেকে দুম্বা বিক্রি করা হচ্ছে।

টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামার (লিফ্ট) প্রজেক্টের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভিন বলেন, ভারতের রাজস্থান থেকে আনা হয়েছে এসব দুম্বা।

এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে- মাঠ পর্যায়ে ২০ সুবিধাভোগী সদস্য আছেন। দারিদ্র্য বিমোচনে দুম্বার বংশ বিস্তার করে এক জোড়া করে (নারী-পুরুষ) দুম্বা সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এজন্য তাদের দুম্বা পালনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মূলত দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই এই প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে।

ডা. রেহেনা আরও বলেন, দুম্বা নিয়মিতভাবে ছয় মাস পর পর বাচ্চা দেয়। তিন মাসের একটি বাচ্চার ওজন ৩৫-৪০ কেজি পর্যন্ত হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। একটি দুম্বার গোশত হয়ে থাকে ১০০ থেকে ১৫০ কেজি। এ ছাড়াও দুম্বা পালনে খরচ খুব কম। দুম্বার জন্য প্রতিদিন ৪০-৪৫ টাকার খাবারই যথেষ্ট। সময় মতো ভ্যাকসিন দিলে ঠিক মতো বেড়ে ওঠে। দুম্বাকে দিনে চারবার খাবার দিলেও দুই বেলা ভারী দানাদার খাবার দিতে হয়। সেইসঙ্গে দুই বেলা দিতে হয় কাঁচা ঘাস। গমের ভুসি, ভুট্টা ভাঙা, সয়াবিন, খৈল, জিসিপি লবণ ইত্যাদি দুম্বার প্রিয় খাবার।

টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারের পরামর্শক সরদার মহাতাব উদ্দিন বলেন, পল্লী উন্নয়ন সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দুম্বার প্রতিপালন করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে দুম্বার খামার বেকারদের পথ দেখাবে।

টিএমএসএস নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বলেন, পবিত্র ভূমি মক্কার প্রাণী দুম্বা। এই দুম্বা যদি আমরা চাষ করতে পারি, তা হলে অনেক সাফল্য পাওয়া যাবে। অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছিলাম। তা ছাড়া বাংলাদেশের জলবায়ুতে দুম্বা টিকবে কিনা। তার পরও আপাতত ছোট পরিসরে শুরু করা হয়েছে। দুম্বা খামারের আয়-ব্যয় দেখে আমরা আগামীতে বড় পরিসরে খামার গড়ার পরিকল্পনা করব।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও এদেশের আবহাওয়ায়ও পালনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের আবওহয়ায় বেশ মানিয়ে নিতে পারছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর