শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে জল জ্যান্ত মানুষের পিঠে বড়শি বিধে শূন্যে ঘুরলেন ২ যুবক

news-image

আকতার হোসেন ভুইয়া, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : বড়শিতে গাথা জলজ্যান্ত তাজা মানুষ। পিঠে বড়শী বিধে চড়ক গাছে ঝুলিয়ে প্রায় ১৫ ফুট শূন্যে ঘুরে পালন করলেন শিব পূজারই অংশ চড়ক উৎসব। আর গাঁ শিউরে উঠা এই দৃশ্য দেখলেন শত শতনারী-পুরুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবছরের ন্যায় রবিবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে চড়ক উৎসবটি। হিন্দু ধর্মাবলীরা উৎসব আয়োজনে এ পূজা ।

প্রতি বছর এই পূজার মূল আর্কষণ থাকে বড়শি বিধে শূন্যে ঘোরা। তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী আর নানা আনুষ্ঠানিকতায় তা সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয়রা জানায়,প্রায় দু’শত বছর ধরে চলে আসছে এ চড়ক পূজা। আর এ পূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলীদের মধ্যে দেখা দেয় উৎসবে আমেজ।

বিকাল ৫টা বাজার সাথে সাথে সন্ন্যাসী বিনোদ দাসের নেতৃত্বে ২ যুবক পাশের পুকুরে শ্ন্যান করেন। এরপর ২ যুবক মাটির কলসে জল(পানি)ভরে মাথায় নিয়ে আসে চড়ক গাছের কাছে । পরে ২ যুবকের পিঠে দুইটি বড়শি বিদ্ধ করা হয়। এ সময় স্বরণ করা হয় মহাদেব শিব ঠাকুরকে। এরপর ২ যুবককে ১০/১২ জন পুরুষ ধরাধরি করে গাছের দুই পাশে ঝুলিয়ে দেন চড়ক গাছে। এই দুই যুবককে নিয়ে শূণ্যে ঘুরতে থাকে। এভাবেই বড়শিতে বিধে শূণ্যে ঘুরে নেমে আসে দুই যুবক। তারা জানান, এখানে হিন্দুর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু সবাই চড়ক গাছে উঠতে পারে না। এতে সাহস লাগে।

সন্ন্যাসী বিনোদ দাস জানান, শিব ঠাকুরের সন্তুষ্টির জন্যই তারা প্রতি বছর চড়ক গাছে চড়ে থাকেন। শরীরে বড়শি বিধার ফলে বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ার কোন আশংকা নেই। চড়ক গাছ থেকে নামিয়ে গোড়ায় থাকা ফুল টিপে দিলেই হয়। কিন্তু এর জন্য কোন ঔষধ লাগে না।এছাড়াও এসময় তান্ত্রিক মন্ত্রের ধারা বিভিন্ন অলৌকিক ধর্মীয় কর্মসূচী আর নানা আনুষ্ঠানিকতা শত শত উৎসুক নারী-পুরুষ এসব উপভোগ করেন।