,

নাসিরনগর হাওরেগুলোতে আগের মত নেই পাখির কলরব

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চল খ্যাত উপজেলা নাসিরনগর। এখানে বছরের এদিনে শীতের আগমন শুরু এলেই প্রতিনিয়ত বাড়ত দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় পাখি। আর এসব পাখির কলরবে মুখর হয়ে উঠত মেদীর হাওর সহ আশে পাশের বেশ কয়েকটি হাওর এলাকা। এ অঞ্চলটি পাখির অভয়াশ্রম হিসেবেই লোকমুখে পরিচিত ছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথী ও দেশীয় পাখির আগমনে মৌসুমি বিনোদন প্রেমিরা বেশ আনন্দ উপভোগ করত। দিনের শুরু কাঁক ডাকা ভোর থেকে পড়ন্ত বিকেলের স‚র্য অস্ত যাওয়ার আগ ম‚হ‚র্ত পর্যন্ত পাখির কলতান উপভোগ করতে স্থানীয়সহ দ‚র-দ‚রান্ত থেকেও আস পাখিপ্রেমী মানুষেরা। বছর ঘুরে এখন শীত আসে ঠিকই; কিন্তু আগের মতো আসে না অতিথি পাখি। নাসিরনগরে গত কয়েক বছর ধরে কমে গেছে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। পাখি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্নিষ্টরা বলছেন, পাখির আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে দিন দিন পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি হাওরে নতুন নতুন চর পড়ায় হাওর হারিয়েছে তার স্বাভাবিক পরিবেশ। উপরন্তু, বিলে ছোট মাছ কমে যাওয়ায় পাখির আনাগোনাও কমে গেছে।

এ ছাড়া হাওরসহ আশপাশে পাখির আবাসস্থল তৈরিতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অতিথি পাখিরা। স্থানীয়রা জানায়, হাওরের স্যাঁতসেঁতে কাদাপানিতে ছোট মাছ, শামুকসহ পাখিদের প্রাকৃতিক খাবারের নানা উৎস থাকায় সেখানে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বালিহাঁস, পানকৌড়ি, সাদা বক, রামকুড়া, পিয়ারী, শামুককৌড়ি, ল্যাঞ্জা হাঁস, কালো হাঁস, কুড়া, চখাচখি, চাতক, চিত্রা শালিক, ডুবুরি পাখি, দেশি মেটে হাঁস, ধলাটুপি পাঁয়রা, নিশি বক, পাতি তিলিহাঁস, বালু নাকুটি প্রভৃতি নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি দলবেঁধে ছুটে আসত। দিনে দিনে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার ফলে আগের হাওরের সেই চির-চেনা দৃশ্য আজ আর দেখাই যায় না। ৩৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে জেলার নাসিরনগর উপজেলা। জেলা সদর থেকে উপজেলার দ‚রত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার। জেলার উত্তরে অবস্থিত এ হাওরবেষ্টিত নাসিরনগর অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা। মেঘনা নদীর শাখা গিয়ে মিলিত হয়েছে নাসিরনগরের মেদীর হাওরের লঙ্গন, বলভদ্র, কচরাবিল, আঠাউরি, খাস্তি ও চিকনদিয়া উপনদীর সঙ্গে। এখানে বেশ কিছু হাওর, বিল ও মরা নদী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পরিযায়ী পাখির জন্য মেদীর হাওরই বিখ্যাত। সরেজমিন দেখা যায়, এসব হাওরের তীর ঘেঁষে খাল-বিলের আশপাশে গত কয়েক বছরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ইট-ভাটা। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাখিদের জন্য পরিবেশ অনুক‚লে না থাকায় কয়েক বছর ধরে হাওরে পাখি কমেছে। কথা হয় বেশ কয়েকজন পাখি প্রেমী সাথে তারা বলেন, হাওর, খাল-বিল, জলাশয় থেকে নির্বিচারে পরিবেশবান্ধব শামুক-ঝিনুক নিধন করার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের পরিমাণ যেমন কমছে, কমছে পাখিও। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখির প্রাকৃতিক খাবারের উৎস। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুর রহমান বলেন, পরিযায়ী পাখি আমাদের দেশের জন্য আশীর্বাদ। এসব পাখি আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছে। তাই উপযুক্ত পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের অচিরেই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর