,

যৌবনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়

news-image

যুগে যুগে যুবসমাজই জরাগ্রস্ত পৃথিবীতে এনেছে নবজীবনের ঢল। তিমির রাত্রির অবসানে রক্ত-রাঙা প্রভাতের সূচনা করেছে। যুবকদের চোখেই থাকে নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন। পৃথিবীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত অফুরন্ত নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যৌবনের শক্তিমত্তা। অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার যুবসমাজই দেশ ও জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার। শত-সহ¯্র ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে তারাই পারে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় বীর বিক্রমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রদত্ত শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা ইসলামে যৌবনকালের গুরুত্ব সীমাহীন। এ সময়ের ইবাদত আল্লাহ তাআলার কাছে খুবই প্রিয়। এ সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. ইরশাদ করেছেন, ‘সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ সে যুবক-যুবতি, যে তার রবের ইবাদতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে।’ বুখারি শরিফ
অপরদিকে মসজিদ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘জনপদসমূহের মধ্যে মসজিদ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং বাজার তাঁর কাছে সর্বাধিক অপছন্দনীয়।’ মুসলিম শরীফ
মহান আল্লাহ তাআলা মসজিদকে জান্নাতের টুকরা বানিয়েছেন। রাসূল সা. বলেছেন, ‘মসজিদসমূহ আসমানবাসীদের জন্য আলোকস্তম্ভ, যেমন নক্ষত্রসমূহ পৃথিবীবাসীদের জন্য আলোকমালা।’ এ কারণেই পৃথিবীর যে কোন মসজিদ মুসলমানদের কাছে এক বিশেষ মর্যাদা সংরক্ষণ করে। সেখানে গেলে তাদের মনের মধ্যে এক আলাদা ভাবের উদয় হয়। পাপমুক্ত হওয়ার বাসনা জাগে, পবিত্র জীবন যাপনে উৎসাহ বোধ করে এবং দীন পালনে উজ্জীবিত হয়। তাই বলা যায়, যুবসমাজের নৈতিক চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে মসজিদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মসজিদে যাওয়ার প্রতিদান সম্পর্কে রাসূলে কারিম সা. বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় (নামাজ আদায় করার জন্য) যতবার মসজিদে যাতায়াত করবে, আল্লাহ তায়ালা ততবারই তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর সামগ্রী তৈরি করে রাখবেন।’ বুখারি শরিফ
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ মুসলিম যুবক আজ মসজিদ বিমুখ। আজ মুসলিম জাতির সামনে বিরাট প্রশ্নÑ যুবসমাজ কেন মসজিদে যেতে আগ্রহী নয়? দু’এক কথার মাধ্যমে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া আদৌ সম্ভব নয়। মুসলিম যুবকদের এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। তবে সবচেয়ে বড় কথা যেটা, তা হলোÑ যে কোন উপায়েই হোক না কেন, এ অবস্থা রোধ করতে না পারলে উম্মাহর বর্তমান সংকট দূর করা কখনই সম্ভব হবে না।
যে সব কারণে মুসলিম যুবসমাজ মসজিদে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছে তার প্রধানতম কারণ বিজাতীয় অপসংস্কৃতি।
যুবসমাজের মসজিদ বিমুখ হওয়ার পেছনে বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথীর প্রভাব যুবসমাজের আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে অনেক যুবক ধূমপান, মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি বদঅভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। এসব কারণে তারা মসজিদের প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকে। এজন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সৎ বন্ধু ও সত্যবাদি সাথীদের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদিদের সঙ্গে থাকো।’ সূরা তাওবাহ : ১১৯
যুবসমাজের মসজিদের প্রতি অনীহার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় কারণ পারিবারিক অনিহা। অনেক পিতা-মাতা আছেন যারা নিজেরা নামাজ আদায় করলেও তাদের যুবক ছেলে-মেয়ে নামাজ আদায় করে কিনা সে ব্যাপারে কোন খোঁজ-খবর রাখে না। অথচ পরিবার থেকেই শিশু কিশোররা প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করে থাকে। আর মসজিদের ইমাম ও সমাজের মুরব্বি ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায়, যৌবনকাল জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণের মোক্ষম সময় এটি। কিন্তু অনেক যুবক যৌবনের উচ্ছ্বলতায় বিবেক, বুদ্ধি হারিয়ে ভুল পথে পা বাড়ায়। তাই সমাজের যুবকদের প্রতি পরিবারসহ সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যাতে তারা মসজিদমুখি জীবন-যাপন করতে পারে।

এ জাতীয় আরও খবর

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সমাধান! সম্মানজনক পারিশ্রমিক দাবি ক্রিকেটারদের

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর