তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী পক্ষের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ উপনির্বাচনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে অংশ নেবে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ নির্বাচনে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’।
এর আগে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচলিত নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং সংরক্ষিত প্রতীক ‘জোড়াফুল’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিতে বলা হয়।
মমতা শিবির তিনটি বিকল্প নামের পাশাপাশি দুটি প্রতীক প্রস্তাব করেছিল। নামগুলোর মধ্যে ছিল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীকের তালিকায় ছিল ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ ও ‘ক্রিকেট ব্যাট’। কমিশন তাদের প্রস্তাবিত ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীকটি অনুমোদন করেছে।
অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থীরা ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিনটি নাম প্রস্তাব করে। প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ছিল ‘খাম’, ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ ও ‘টর্চ’। কমিশন দ্বিতীয় নাম ও প্রথম প্রতীকটি বরাদ্দ করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নতুন দলীয় নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, তাদের দলের নামের মধ্যে কোনো ব্যক্তির নাম রাখা হয়নি। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করেন বলে জানান।
অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতাপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল খেলোয়াড়ের পোশাক পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলীয় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দুই পক্ষের প্রার্থীরাও এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণের ফলে আপাতত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলো।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের মূল নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে কমিশনের পৃথক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।











