আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির
জেলা প্রতিনিধি, রংপুর : জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সাহস করে বলতে পারে না- গণভোট মানি না। তবে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলে সংবিধানে গণভোট নাই। সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনও নাই, কোনো সরকারও নাই। মানতে হলে সবটাই মানতে হবে, আর না মানলে সব বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন। দেখা যাবে- কার বুকের পাটা কতটুকু।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৮ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির রাত ৯ টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠের মঞ্চে ওঠেন। পরে ৯টা ২০ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি এসময় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান মেনে ২০২৪-এ গণবিপ্লব হয় নাই। ফ্যাসিস্টদের আপনারা, আমরা সংবিধান অনুসরণ করে তাড়াতে পারি নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৬ দফা দাবি নিয়ে লংমার্চে নেমেছি। কিন্তু দ্বিতীয় লংমার্চে আরো দুটি দাবি যোগ করেছি। আল্লাহর কসম করে বলছি, এই দাবিগুলো আমাদের কোনো দলের নয়। এই দাবিগুলো দেশের জনগণের- ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আমরা এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই রংপুরে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অঙ্গিকার রাখলেন না। জনগণ ৭০ ভাগ ‘হ্যাঁ’ ভোটে ভোট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায় মানে নাই। অগ্রাহ্য করেছেন। জাতির কাছে কথা দিয়ে কথা রাখেননি।
‘মধু কই কই তাদের ঘুষ খাওয়াইলা, কোন হারনে জুলাই সনদ নাও মানি লা’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই অঞ্চলের এক মন্ত্রী নির্বাচনের আগে তিস্তা বাস্তবায়ন নিয়ে আন্দোলন করেছেন। কন্ঠে ‘বাহে জাগো সবায়’। সংসদের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘যে নামেই হোক তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে’। কিন্তু ৭ মাস হয়ে গেল, কোন নড়াচড়া নাই। কোনদিক থেকে কোন পানি পরা খেলেন। এক আর কোমরে জোর দেখি না। জনগণকে ধোঁকা দেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছিলাম, ক্ষমতায় গেলে এই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করব। কিন্তু নির্বাচনে ভোটের ইঞ্জিনিয়ারিং করে আপনারা ক্ষমতা আসলেন। আমরা অন্যায্য নির্বাচন মেনে নিয়েছি, যাতে দেশটা ভালো চলে। কিন্তু আপনারা যেসব কথা দিয়েছেন সব ভুলে গেছেন। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে সব ভুলে গেলেন। যে পথে হাসিনা চলে গেছে, সেই পথ ধরেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে পরিণতি একই হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, সারাদেশের মতো রংপুরেও বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। তবে চাঁদাবাজি আছে। কেউ কাজ না পেলেও একটি দলের কর্মীরা কিন্তু কাজ ঠিকই পাচ্ছে। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর বদরগঞ্জ আসনের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম।
উত্তরাঞ্চলমুখী এই লংমার্চে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলের সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৮ দফা দাবি তোলা হয়।
এদিকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশস্থলে সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে মাঠ। মাঠ ছাড়িয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ও আশপাশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। লংমার্চ ঘিরে রংপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।










