বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে স্বামীর আত্মহত্যার খবর শুনে কীটনাশক পান করল স্ত্রী

news-image

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দিনারা গ্রামের লিয়াকত হোসেন (২৭) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার মৃত্যুর খবর শুনে স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (২০) কিটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পুলিশ লিয়াকতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইয়াসমিন আক্তার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লিয়াকত দিনারা গ্রামের ডি এম হারুন অর রশীদের ছেলে। ইয়াসমিন একই গ্রামের ইয়ারবক্স সরদারের মেয়ে। রবিবার দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, উপজেলার দিনারা গ্রামের ডি এম হারম্নন অর রশীদের ছেলে লিয়াকত (২৩) ও একই গ্রামের ইয়ারবক্স সরদারের মেয়ে ইয়াসমিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন মাস আগে ইয়াসমিনের পরিবার ইসমিনকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। বিয়ের একদিন পরে লিয়াকত ইয়াসমিনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে গ্রামের লোকজনের সামনে ইয়াসমিনকে বিয়েকরার কথা বললে স্থানীয় মাতবররা মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।লিয়াকত  ইয়াসমিনকে বিয়ে করবে বলে আস্বাশ দিলে ইয়াসমিন তার স্বামীকে তালক দিয়ে দেয়। কয়েকদিন পরে লিয়াকত তাকে বিয়ে করবেনা বলে জানিয়ে দেয়।

পরে অপহরন ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে লিয়াকতও তার বাবা-মাকে আসামি করে ইয়াসমিন বাদি হয়ে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার তুলে নেওয়ার শর্তে লিয়াকত ইয়সমিনকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে লিয়াকতকে তালাক দিতে ইয়াসমিনকে চাপ দিতে থাকে লিয়াকত ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার দেন দরবার হয়। সাত দিন আগে তালাকের জন্য ইয়সমিনকে চাপ দিলে ইয়াসমিনের পরিবার ইয়াসমিনকে শশুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসে।


রবিবার দুপুর ২টারদিকে লিয়াকতের থাকার ঘরের আরার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় লিয়াকতকে দেখতে পায় তার মা  মমতাজ বেগম। মমতাজ বেগমের চিৎকার শুনে আসে পাশের লোকজন ছুটে এসে লিয়াকতকে নিচে নামায়। পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করে।


লিয়াকতের মৃত্যুর খবর শুনে ইয়াসমিন তার বাবার বাড়িতে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বাড়ির লোকজন দ্রুত তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ইয়াসমিন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লিয়াকতের বাবা ডি এম হারুন অর রশীদ বলেন, মামলার ফাদে ফেলে আমার ছেলের কাছে মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়া হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় আমার ছেলে আজ আত্মহত্যা করেছে।
ইয়াসমিনের ভাই আল আমীন বলেন, বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই লিয়াকতকে তালাক দেওয়ার জন্য আমার বোনের উপর নির্যাতন শুরু করে লিয়াকত ও তার পরিবার। পরে আমরা আমার বোনকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। লিয়াকতের আত্মহত্যার খবর শুনেই আমার বোন আত্মহত্যার চেষ্টা করে।


নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ছেলেটির বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছিল মেয়েটি। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে মেয়েটিকে বিয়ে করে লিয়াকত ঢালী। লিয়াকতের মৃতদেহ সদর হাসপাতালে রয়েছে। পালং থানা পুলিশ তার লাশ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে