,

চট্টগ্রামে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড

news-image

চট্টগ্রামে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে অপ্রীতিকর কাণ্ড ঘটিয়েছে ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার সহযোগীরা। গতকাল শুক্রবার নগরীর ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত সিটি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রে ঢুকে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল নগরীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নোমান চৌধুরী কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চান। এ সময় তার সঙ্গে আরেক নেতাও ছিলেন। কিন্তু নোমানের সঙ্গে থাকা নেতা কলেজের ছাত্র হওয়ায় তাকে কলেজে ঢুকতে দেয় পুলিশ। অন্যদিকে 
নোমান কলেজের ছাত্র না হওয়ায় তাকে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে নোমান পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে কলেজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও ২০ জন নেতা-কর্মীও কলেজ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। পরে তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে সিটি কলেজের দক্ষিণ ভবনের নিচতলায় হলরুমে ঢুকে পড়েন। সেখানেও তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন পরীক্ষা হলে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষক, পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু নোমান সেসবের তোয়াক্কা করেননি। তিনি জোরপূর্বক হলে ঢুকে এক পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রের ছবি তুলতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা জব্দ করে তা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে পুলিশি সহায়তায় নোমান ও তার সহযোগীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নোমান ও জিল্লু নামে দুই নেতাসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী কলেজে প্রবেশ করে পরীক্ষার হলে ঢুকে যান। এ সময় নোমান এক পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র কেড়ে নিয়ে কিছু ছবি তোলেন। কর্তব্যরত শিক্ষক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। পরে তার মোবাইলটি জব্দ করা হয় এবং তা সদরঘাট থানার ওসি’র কাছে জমা দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঝামেলা করলেও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ অবহিত আছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।’
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান জিল্লু তা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ‘নোমানের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে শুনে আমি কলেজে যাই। কিন্তু আমার সঙ্গে কোন ঝামেলা হয়নি। নোমান যখন কলেজে ঢুকে আমি তখন সাংসদ এম এ লতিফের বাসায় ছিলাম। আমি ঘটনার পরে খবর পেয়ে সেখানে যাই।’


তবে এটিকে তুচ্ছ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন সদরঘাট থানার ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে এটি কোন বড় ঘটনা নয়, তুচ্ছ ঘটনা। তুচ্ছ ঘটনাটাই বড় হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনগতভাবে করণীয় সবই করা হবে।’ এদিকে ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষের পাশে আরেকটি কক্ষে পুলিশ প্রহরায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উত্তরগুলো গণনা করে বাক্সভর্তি করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশি প্রহরায় জেলা প্রশাসক উত্তরপত্রগুলো নিয়ে সিটি কলেজ ত্যাগ করেন।

এ জাতীয় আরও খবর

কসবায় বিষাক্ত কেরির বড়ি সেবনে দুইজনের মৃত্যু

নবীনগরে এলসিএস কর্মীদের সঞ্চয়কৃত টাকার চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি মান্নান

সংসদের তিন অধিবেশনে ব্যয় ৭০৩ কোটি টাকা, প্রতি সেকেন্ডে খরচ সাড়ে ৫ হাজারের বেশি

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক সাক্ষ্য: বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

৫৫ বছর বয়স থেকেই তোলা যাবে পেনশনের টাকা

৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড

‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প

পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন

বাবা হারালেন সংগীতশিল্পী সালমা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে সঞ্চিত পানি : ডব্লিউএমও-র সতর্কবার্তা