লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩৯
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অন্তত ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা সংগঠনটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিক্ষোভ থেকে মোট ১৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। দিনের শুরুতে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে পুলিশের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জন ম্যাকডোনেল। তাঁর মতে, কোনো সংগঠনের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই সেটিকে ওই সংগঠনের প্রতি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এমন প্রতিবাদকে গ্রেপ্তারযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় ধরনের বিক্ষোভ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে সেখানে কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। দুই শহরের বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ দাবি করেছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সংগঠনটির নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গ্রেপ্তার হওয়া মানুষের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে।
সংগঠনটির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা উদ্বেগজনক। নিষেধাজ্ঞার পেছনে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের যোগাযোগ ও প্রচার বিভাগের প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেনসও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কেবল প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেপ্তার করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার সুরক্ষায় আইন সংস্কার করা প্রয়োজন।











