বিমানের ককপিটে বেতারের গান, ঝুঁকিতে আকাশপথের যোগাযোগ
অনলাইন ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাঠানো নির্দেশনার পরিবর্তে পাইলটদের হেডফোনে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতারের গান ও অনুষ্ঠান। এতে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মধ্যে জরুরি যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ধামরাইয়ে স্থাপিত বাংলাদেশ বেতারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সম্প্রচারকেন্দ্র থেকে নির্গত অতিরিক্ত রেডিও তরঙ্গের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের ১৪ নম্বর রানওয়ে ব্যবহার করে উড্ডয়নের পর পাইলটদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) শাখা। চিঠিতে সমস্যার উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের প্রধান নেভিগেশন কেন্দ্র ডিএসি ভিওআর থেকে প্রায় ৫ দশমিক ৫ থেকে ৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় এ সমস্যার প্রভাব বেশি। এলাকাটি মূলত সাভার ও ধামরাইয়ের কাছাকাছি।
সমস্যার কারণে অনেক সময় কন্ট্রোল টাওয়ার পাইলটের পাঠানো বার্তা শুনতে পেলেও টাওয়ার থেকে দেওয়া নির্দেশনা ককপিটে পরিষ্কারভাবে পৌঁছায় না। এর পরিবর্তে রেডিও সম্প্রচারের শব্দ শোনা যায়। এতে উড্ডয়নের পর নির্দিষ্ট গতিপথ ও উচ্চতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাইলটদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, বিমান চলাচলের জন্য নির্ধারিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিএইচএফ ফ্রিকোয়েন্সিতে এ বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১২১.৩ মেগাহার্টজ নিয়মিত বিমান চলাচল ও কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ১২১.৫ মেগাহার্টজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জরুরি যোগাযোগের ফ্রিকোয়েন্সি।
কোনো উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি, ছিনতাই কিংবা অন্য কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে পাইলটরা জরুরি সংকেত পাঠাতে ১২১.৫ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করেন। এ কারণে সেখানে অন্য সম্প্রচারের হস্তক্ষেপ হলে জরুরি বার্তা আদান-প্রদানে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বেবিচকের চিঠিতে বিষয়টিকে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বেবিচকের যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারি (সিএনএস) পরিদপ্তর সমস্যার উৎস অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রচার তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ফিল্টারিং ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই আলম জানান, বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার তরঙ্গের কারণে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের পাশাপাশি ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংও পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কন্ট্রোল টাওয়ার ও পাইলটের মধ্যে যোগাযোগ চলার সময় হঠাৎ রেডিও সম্প্রচারের শব্দ ভেসে আসায় পাইলটরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং নির্দেশনা স্পষ্টভাবে শুনতে পারছেন না। বিষয়টি উদ্বেগজনক হওয়ায় দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিটিআরসির উপপরিচালক (মিডিয়া) মো. আবদুল শহীদ চৌধুরী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সমস্যার দ্রুত কারিগরি সমাধান এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রধান দাবি।











