নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আবারও রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার তেল আবিবে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে এক হয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় টিকে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
এর আগে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আল-জাজিরার প্রতিনিধি নুর ওদেহ জানিয়েছেন, পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দেওয়া অনেক ইসরায়েলি নাগরিক এখন বিরোধী নেতাদের কাছে তাদের দাবির প্রতিফলন দেখতে চাইছেন।
তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করে পাল্টা সমাবেশ করেছেন নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও। তাদের বক্তব্য, যেসব দলকে তারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করেন, তাদের নিয়ে সরকার গঠন করা উচিত নয়।
প্রতিবেদনে দেওয়া নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পড়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেশি। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকোটের জোট সরকার গঠন করলে সংসদে ৬৭টি আসনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এবং এ কাজে কাতারের অর্থায়নের দাবি করেছেন। তবে কাতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোর ভূমিকা এবং ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।











