উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক : বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়। এতে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে, তা নির্ধারণের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে বন্ড ও এফওসি সুবিধায় ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত শর্ত মেনে রপ্তানিমুখী উৎপাদনে ব্যবহারের কথা। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখ করা স্থানে আমদানি করা পণ্য খুঁজে পাননি কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির তথ্য সরবরাহ, কাঁচামালের অবস্থান ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে কথিত অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ, অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।











