সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
অনলাইন ডেস্ক : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কোনো নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষকে যে অধিকার দিয়েছে, তা সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সব নাগরিককে নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধন গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিভেদ থাকবে না এবং প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থ বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টার বিরোধিতা করেন তিনি।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সবার সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে কুসংস্কার, সংকীর্ণতা, ধর্মান্ধতা ও উগ্রতামুক্ত সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এবারের দুর্গাপূজা দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্গোৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময় তিনি সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বক্তব্য দেন।











