রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা
অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর পৃথক দুটি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পাশাপাশি ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি পেজ পরিচালনার মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা এবং ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া এজাহারে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে; আদালতে এগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।











