হিন্দুদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার দরকার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক : হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে প্রত্যেক নাগরিকের নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন মহল রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে এ ধরনের বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়টি প্রত্যেকেরই বিচার করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোন সময়ে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত থাকে, তা জনগণ নিজেরাই বিবেচনা করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করা যাবে না। দেশের সব মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। তাঁর মতে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা অধিক যুক্তিসংগত। কারণ, বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় ও অধিকার সমান।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন, উপাসনালয় নির্মাণ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপনের অধিকার দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবায়ন ও ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বাধিক সরকারি বরাদ্দ এবং সর্বোচ্চ ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। উৎসবের আনন্দ যাতে নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করা যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বনানীর পূজামণ্ডপের ‘জলজ’ থিমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উপকরণ ব্যবহার করে সাজানো এই আয়োজন নান্দনিকতার দিক থেকে প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। এ ছাড়া বাফুফে চেয়ারম্যান ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন বক্তব্য দেন।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য স্বপ্না ভৌমিক। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।
মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গার আগমনী সংগীত, নৃত্য পরিবেশনা ও মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় শারদীয় বিশেষ সাময়িকী ‘বোধন’-এর মোড়কও উন্মোচন করা হয়।











