বারিধারায় শ্রমিক নিহতের মামলায় কিশোরের জামিন নামঞ্জুর
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন আবারও নাকচ করেছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বরও ওই কিশোরের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন (মামুন) জানান, কিশোর হিসেবে বিবেচনা এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের বিষয় উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির সময় মামলার বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলে আদালত আবেদনটি খারিজ করেন।
আসামিপক্ষে জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে আজান আলী শারীফ নামের ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানার বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটির দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। দুর্ঘটনার পর চালকের আসন থেকে এক কিশোর বেরিয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় নিহত শ্রমিকের ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরবর্তী তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে আজান আলী শারীফের গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় পুলিশ। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।











