‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানো বড় শিক্ষা:অধরা খান
অনলাইন ডেস্ক : পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যোগাযোগের ঘাটতির অভিযোগ তুলে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ক্যারিয়ারের বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন চিত্রনায়িকা অধরা খান। তাঁর দাবি, সিনেমাটিতে কাজ করতে গিয়ে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি এবং হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক কিছু কাজের সুযোগও।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সিনেমাটি থেকে সরে আসার কারণ তুলে ধরেন অধরা। জায়েদ খানের সঙ্গে অভিনয়ের কথা থাকলেও শুটিং শুরুর আগেই প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। সিনেমাটির শুটিং কানাডায় হওয়ার কথা ছিল।
অধরা তাঁর পোস্টে নির্মাতা কামাল হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ এবং যথাযথ যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণে সিনেমাটিতে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
এতদিন বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন অধরা। তাঁর মতে, নিজের বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নীরব ছিলেন তিনি।
তবে এই নীরবতার সময়ে আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন অধরা। তাঁর ভাষ্য, সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি। এতে কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রী জানান, চুক্তিগত গোপনীয়তার কারণে হারানো প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়া শুটিং শুরুর মাত্র এক দিন আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পুরো অভিজ্ঞতাকে হতাশাজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই নায়িকা।
নিজের পোস্টে অধরা বলেন, বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে যাচাই না করে সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি বড় ভুল হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেওয়া তাঁর নিজেরও দায়িত্ব। পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও দায়বদ্ধতা উভয় পক্ষ থেকেই থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অধরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ মন্তব্য হিসেবে নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।











