‘ইসলামবিরোধী’ হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত বানাচ্ছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েন পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে কট্টর রিপাবলিকান নেতা ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদে হান্টের নাম ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বহরের সাবেক এই কর্মকর্তা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনুসারীকে রিয়াদে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ওয়েসলি হান্ট মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। ২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বাগদাদে ৫৫টি বিপজ্জনক সামরিক মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি কূটনীতিক হিসেবে দুই দফায় সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক অর্জনের চেয়েও বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্ম, মুসলিম সমাজ এবং শরিয়া আইন নিয়ে তার নানা বিতর্কিত ও কঠোর বক্তব্যের জন্যই তিনি বেশি পরিচিত।
সৌদি আরবে নিজ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এবং এর আগে একাধিক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কেমন তা তিনি নিজে দেখে এসেছেন। গত জানুয়ারিতে এক টকশোতে মার্কিনদের সতর্ক করে তিনি মন্তব্য করেন, আমেরিকানদের ‘ইসলাম’ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকা উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করে নিজেদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং একপর্যায়ে ওই সব দেশের শাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নেওয়া।
হান্টের এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (সিএআইআর)-সহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন যে, ভোটব্যাংক ভারী করতে এবং মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ভয় উসকে দিতেই হান্ট এমন বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে থাকেন। টেক্সাস থেকে নির্বাচনে লড়ার সময়ও তার বিরুদ্ধে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল।
ইসলাম ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে বিতর্কিত অবস্থানের পাশাপাশি হান্ট নিজেকে ইসরাইলের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে জাহির করে আসছেন। ২০২২ সালে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপিএসি) এক সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যদি মাত্র একজন সত্যিকারের ও বিশ্বস্ত মিত্র থেকে থাকে, তবে সেটি কেবল ইসরাইল।
ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর সমর্থক হলেও সৌদি আরবের মতো চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে এসেছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-উপসাগরীয় সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েনের এই সংকটময় সময়ে ইসলাম ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে হান্টের এই চরমপন্থী ও বিতর্কিত রেকর্ড রিয়াদে তার নতুন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।











