নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ১১টি প্রধান পরিবর্তন
ঢাকা : গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়া ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি ও গেজেট প্রকাশের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতনকাঠামোয় মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে:
১. বাড়িভাড়া ভাতার হার হ্রাস: শতকরা হার কমিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনে মূল বেতনের ৪০-৬০% এবং অন্যান্য অঞ্চলে ২৫-৫০% প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় নগদ টাকার পরিমাণ বাড়বে।
২. বয়সভেদে চিকিৎসাভাতা: ৫০ বছর পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা, ৫০-৬০ বছর ৪,০০০ টাকা, ৬০-৭০ বছর ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩. বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতে পরিবর্তন: গ্রেড ২০ থেকে ৬ পর্যন্ত ৫% ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকলেও উচ্চতর গ্রেডে (গ্রেড ৫ থেকে ২) ইনক্রিমেন্টের হার কমিয়ে ২.৭৫% থেকে ৪% পর্যন্ত করা হচ্ছে।
৪. সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা: প্রথমবারের মতো ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালু হচ্ছে (১ম-৫ম গ্রেড: ৫০০ টাকা, ৬ষ্ঠ-২০তম গ্রেড: ১৫০ টাকা)।
৫. যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ: মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
৬. টিফিন ও ধোলাই ভাতা বৃদ্ধি: টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
৭. প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ৬,০০০ টাকা) নতুন ভাতা চালু হচ্ছে।
৮. নববর্ষ ভাতা হ্রাস: বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০% থেকে কমিয়ে ১৫% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৯. পেনশনে নতুন সীমা: ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০,০০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০,২০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১০. উচ্চতর গ্রেডের সময়সীমা হ্রাস: পদোন্নতি না পেলেও একই গ্রেডে ১০ বছরের পরিবর্তে ৮ বছর চাকরি করলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে। তবে ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হবে।
১১. সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ: মূল বেতনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর ৮১ ধরনের বিশেষ ভাতা পর্যালোচনা করে ১০-১৫% পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত হবেন।











