,

একদিনে একাধিক ঝটিকা মিছিল, চাপে পুলিশ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একদিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক ঝটিকা মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির কারণে মিছিল ঠেকাতে আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক মিছিল বের করেন। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ককটেল ও মিছিলের ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি এলাকায় শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তারা তিনটি ককটেল ফেলে দ্রুত সরে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গাজীপুরের পূবাইল এলাকায়ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। একই সময়ে চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় পৃথক দুটি মিছিল বের হলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সেগুলো ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে আগাম তথ্য না থাকায় মিছিল শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি ও সাংগঠনিক গতিবিধি নিয়ে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিজস্ব সোর্সের ওপর নির্ভর করে একযোগে বিভিন্ন এলাকায় জমায়েতের তথ্য আগে থেকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে মিছিল শুরু হওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তা ছত্রভঙ্গ করা হচ্ছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ, ছবি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

গুলশানের বড় জমায়েতের ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এত বড় একটি মিছিলের বিষয়ে আগে থেকে কেন তথ্য পাওয়া যায়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে কোনো ধরনের বিলম্ব বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো কর্মসূচি প্রতিহত করতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য যথাসময়ে না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি বড় ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার আশঙ্কা থাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবারের ঘটনাগুলোর পর দেশের বিভিন্ন ইউনিটকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সম্ভাব্য কর্মসূচির আগাম তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মিছিল শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আগে থেকেই সম্ভাব্য জমায়েতের তথ্য পাওয়া গেলে তা মোকাবিলা করা অনেক সহজ। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।