অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন অযৌক্তিক : হাইকোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: অবসর বা পদত্যাগের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট পেতে নতুন করে গোয়েন্দা যাচাইয়ের মুখোমুখি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে করা এক রিটের রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক এবং তাদের স্ত্রীদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু ও হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত বলেছেন, এ ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের পরিচয় ও মর্যাদা যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। ফলে অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য একই ব্যক্তিদের আবার গোয়েন্দা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় নেওয়া অযৌক্তিক।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও তাদের স্ত্রীদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারপতির পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়।
আগে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা ছিল না।
তবে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারকের মাধ্যমে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন নেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়।
এই নতুন নিয়মের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট পেতে জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণের পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তবে গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। এতে বিদেশ ভ্রমণেও বাধার মুখে পড়েন তিনি।
পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তীতে সেই রুলের নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট এই রায় দেন।
রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র যাদের পরিচয় ও মর্যাদা যাচাই করে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, অবসরের পর তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য পুনরায় একই ধরনের গোয়েন্দা যাচাইয়ের আওতায় আনা যুক্তিসংগত নয়।











