বাল্যবিবাহ নারীর অগ্রগতির বড় বাধা: মাহ্দী আমিন
অনলাইন ডেস্ক : বাল্যবিবাহ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি সামাজিক সংকট বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা ও বিকাশের পথে বড় বাধা তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সোমবার সকালে ঢাকার একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আয়োজনে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ শীর্ষক এক প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধ এবং মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, অনেক পরিবার মনে করে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলেই একটি সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে আরও বড় সংকট তৈরি হয়। দারিদ্র্য কোনো শিশুর শৈশব ও শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। পরিবারের মেয়েকে যথাযথ নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা দিয়ে বড় করা হলে একসময় সে পরিবারের অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হয়।
নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে নারীরা সমাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। প্রশাসন, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মেয়েরা সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সামাজিক ভুল ধারণার কারণে অনেকেই বাল্যবিবাহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, অথচ এর মাধ্যমে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে বৃহৎ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাল্যবিবাহের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং মেয়েদের স্কুল থেকে ঝরে পড়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন। এসব সমস্যা অঞ্চলভেদে চিহ্নিত করে কার্যকর নীতি ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মেয়েদের শিক্ষায় ধরে রাখতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
বয়স বাড়িয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে বয়সে একটি মেয়ের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সে বয়সে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রতিটি শিশুর শৈশব ও স্বপ্ন রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নারীদের পেছনে রেখে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একটি বাল্যবিবাহমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর নীলিমা ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহবিরোধী সচেতনতামূলক গান, ভিডিও ও পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট প্রদর্শন করা হয়।










